1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গণঅধিকার পরিষদ’ নামে ড.রেজা কিবরিয়া ও ভিপি নুরের নতুন দল পিরোজপুরে রক্তদাতা সংগঠন এসআরপি’র সাথে জেলা প্রশাসকের মত বিনিমিয় সভা  পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তিক টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের “অগ্রগতি পর্যায়” ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঔপনিবেশিক আমলের “ফৌজদারি কার্যবিধি” আধুনিকায়ন হচ্ছে! “পল্লীবন্ধু” উপজেলা সৃষ্টি না করলে অনেকেই নেতা হতে পারতে না” পিরোজপুরে পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় দাবা লীগের বিজয়ী পুরস্কার বিতরণ  বরগুনায় পশুর মত দাঁড় করিয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে “মানবদেহে টিকা প্রদান” সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে “স্থায়ী হলেন ৯ বিচারপতি” পাথরঘাটায় পূজা মন্ডপে  আর্থিক সহায়তা করেন “সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার” ভাণ্ডারিয়ায় পূজা পরিদর্শন করেন পিরোজপুরের”জেলা প্রশাসক”

সালথায় লকডাউন কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ।

নিজস্ব প্রতিনিধি:-
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৪ বার পঠিত

সালথায় লকডাউন কে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনতার সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ।  ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিহত ১ আহত ২০।

ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলার বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২৫) নামে একজন মারা গেছেন। সোমবার  রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সেে রামকান্তপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

এর আগে, পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও বাহিরদিয়া মাদরাসার মাওলানা আকরাম হোসেন এবং জনৈক আরেক মাওলানার গ্রেফতারের গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয় ফরিদপুরের সালথার বিভিন্ন সরকারি দফতরে। সোমবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারীরা তিন ঘণ্টা ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাদের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা কমপ্লেক্সের গাছপালা, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ নানা স্থাপনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশা-পাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, আনসার ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে।

এ সময় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২৫) নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি ফুকরা বাজারে যান। সে সময় চা পান করতে আসা জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

এ ঘটনার জেরে পরে ফুকরা বাজারে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সেখানে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।

পরে স্থানীয় জনতা পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও বাহিরদিয়া মাদরাসার মাওলানা আকরাম হোসেন এবং জনৈক আরেক মাওলানার গ্রেফতারের গুজব ছড়িয়ে দেয়। এমন গুজবে হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, সরকারি নির্দেশনা পালন করতে ওই বাজারে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এমতবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে আসেন এবং সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান। পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। হামলায় মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় স্থানীয় জনতা পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও জনৈক মাওলানাকে গ্রেফতারের পর তাকে মারপিট করা হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে দেয়। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর জানান, আমার বাসভব সহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর নামে এক এসআইকে মারপিট করে। এরপর তারা গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাস ভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে।

এ সময় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২৫) নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD