1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

এমন কোন গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে বিদ্যালয় নাই

তৃণমূল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১
  • ২৯ বার পঠিত

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের শুরুতেই শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে হাত দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৩৬ হাজার ৮৪৩টি বিদ্যালয় জাতীয় করেন। চাকরি সরকারি হয় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষকের। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাবার পথ অনুসরণ করে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন শরীফুল আলম সুমন।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের শুরুতেই শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে হাত দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৩৬ হাজার ৮৪৩টি বিদ্যালয় জাতীয় করেন। চাকরি সরকারি হয় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষকের। বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাবার পথ অনুসরণ করে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে জোর দিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ সরকারীকরণের পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করছেন।

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শিক্ষকদের বিশাল সমাবেশে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তিন দফায় ২৬ হাজার ৩৭০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। এতে এক লাখের বেশি শিক্ষকের চাকরিও সরকারীকরণ হয়। এ ছাড়া যে গ্রামের জনসংখ্যা কমপক্ষে দুই হাজার এবং দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো স্কুল নেই এমন গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ‘বিদ্যালয়বিহীন ১৫০০ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ৪৯৫টি স্কুল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এখন এমন কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে বিদ্যালয় নেই।

জানা যায়, দেশে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬২০। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক হওয়ায় সব শিশুই এখন স্কুলে আসছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হয়েছে। সরকার বিনা মূল্যে বই দেওয়ার পাশাপাশি সব শিশুকেই উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। ফলে দিন দিন ঝরে পড়ার হারও কমে আসছে।

বর্তমান সরকার শুধু প্রাথমিক শিক্ষায়ই নয়, অন্যান্য স্তরেও সমান তালে নজর দিয়েছেন। সরকারি হাই স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারীকরণ হয়েছে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বাইরেও যেখানে প্রয়োজন সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ৩৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩০২টি কলেজ জাতীয়করণে সম্মতি দেন। সম্মতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য সংগ্রহের পর সরকারি করা হয়েছে। এখন শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৬৩৫ এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ছয় শর বেশি।

সরকারীকরণের বাইরে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শতভাগ মূল বেতন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দেয় সরকার। এই খাতে সরকারের বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এসব শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি শেষে এককালীন অবসরভাতা ও কল্যাণ সুবিধাও পান। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলও উন্নীত করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন সরকারি হয়, তখন সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন শিক্ষার্থীরা। সরকারি স্কুলে সুবিধা বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়তে পারে। শিক্ষকদের মান অনেক ভালো হয়। তাঁদের জীবনের মানও বেড়ে যায়। এ ছাড়া টিচিং লার্নিংসহ শিক্ষার সরকারি সব সুবিধা পায় স্কুলটি। সব কিছু মিলিয়ে যেখানে স্কুল সরকারি হয়, সেখানে শিক্ষার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ যত বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তত বেশি উপকৃত হবে।

জানা যায়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের ফলে মানোন্নয়ন হচ্ছে শিক্ষার। কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। মফস্বলে থেকেও অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের আধুনিক সুবিধাসংবলিত ভালো স্কুলে পড়াতে পারছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ সরকারি করেই থেমে থাকেননি। উচ্চশিক্ষা জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি জেলায়ই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজে হাত দিয়েছেন। দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। এর মধ্যে বেশ কিছু বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে।

সব শিক্ষার্থীকে সরকারি প্রাথমিকে টানতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মানসম্মত করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই স্কুলগুলো দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে ঢাকা মহানগরের ৩৪২টি সরকারি বিদ্যালয় নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৬৪ হাজার বিদ্যালয় ঢেলে সাজানো হবে। সব পরিবারের শিক্ষার্থী টানতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, ভবন সংস্কার, প্রাচীর তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিদ্যালয়ের ভিতর-বাহির চাকচিক্য করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলোতেও দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করা হচ্ছে। আগের মতো জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বন্যা বা নদীভাঙন এলাকাগুলোতেও স্থানান্তরযোগ্য বিশেষ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD