1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পাথরঘাটায় পূজা মন্ডপে  আর্থিক সহায়তা করেন “সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার” ভাণ্ডারিয়ায় পূজা পরিদর্শন করেন পিরোজপুরের”জেলা প্রশাসক” সুইস ব্যাংকের টাকা ফেরত পেলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করব ৫০০ কোটি টাকা পুলিশকে দেব “মুসা” ভাণ্ডারিয়ায় সমবায়ীদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার  আমির হোসেন পালিয়ে কবরে ফেসবুক ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় ৫২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সাগর মোহনায় মা ইলিশ ধরার অপরাধে ১৪জেলেকে কারাদণ্ড দেশের জেলেরা “২২দিনের বন্দী” উম্মুক্ত ভারতীয় জেলেরা! শেষ শ্রদ্ধায় “জাতীয় পার্টির মহাসচিব “বাবলু” নাসির-তামিমার “বিয়ে অবৈধ” আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আগামী এসএসসি জুনে এবং এইচএসসি আগস্টে

দৈনিক তৃণমুল ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৩ বার পঠিত

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারির পর এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। আর আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জুনে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুলাই-আগস্টে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।

‘কাস্টমাইজড’ (সুনির্দিষ্ট) সিলেবাসের ওপর এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হবে। কতটুকু পড়তে পেরেছে আর কতটুকু পড়ানো সম্ভব হবে-সেই বাস্তবতার আলোকে হচ্ছে এই সিলেবাস।

এ ছাড়া দুই পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে ফেব্রুয়ারির দিকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।

মঙ্গলবার এক যৌথ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপিও বক্তব্য দেন।

শিক্ষামন্ত্রী এতে আরও জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার যথাসময়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনা মূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করছে। ৩১ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

পরদিন ছাত্রছাত্রীদের হাতে পর্যায়ক্রমে বই তুলে দেয়া হবে। প্রাথমিকের সব বই তিন দিনে আর মাধ্যমিকের বই ১২ দিনে বিতরণ করা হবে। তিনি আরও জানান, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর দেয়ার পরিবর্তে অভিন্ন পরিচিতি নম্বর দেয়ার কাজ চলছে।

এই নম্বরই উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত থাকবে। জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না হওয়ায় এবার ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যাবে না, শুধু সনদ দেয়া হবে। এমপিও নীতিমালা ও শিক্ষা আইন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে আছে।

জানুয়ারিতে এমপিও নীতিমালা প্রকাশের লক্ষ্য আছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। অনার্স-মাস্টার্স কলেজের শিক্ষক বা ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে আরও চিন্তা করা দরকার।

তবে আমরা শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের কাজ করছি। সে জন্য এখনই অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। সারা দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার পদ শূন্য আছে। এসব পদেও নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হাসিবুল আলম, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানুয়ারিতে এইচএসসির ফল : মহামারীর মধ্যে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়া হয়নি। জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় ধরে তৈরি হচ্ছে ফল। ডিসেম্বরের মধ্যে এই ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা আটকে গেছে।

বিশেষ প্রক্রিয়ার এ ফল প্রকাশে প্রয়োজন হচ্ছে অধ্যাদেশ। এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত আইন আছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এটি জারি করা মাত্রই ফল দিয়ে দিতে পারব। আশা করি, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করতে পারব। এটি জারি করতে পারলেই ফল দিয়ে দেব।’

তিনি জানান, দেশের ১১টি বোর্ডে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রত্যক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সিলেবাস ‘কাস্টমাইজ’ করার কাজ চলছে। পরের স্তরে যেতে যেগুলো প্রয়োজন, সেগুলো মাথায় রেখে সিলেবাস কাঁটছাট করে ছোট করা হবে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জানাতে পারব।

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল-এই সময়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। আর জুনে এই পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করব। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ক্লাসরুমে সরাসরি পাঠদানের চেষ্টা করা হবে। তাদের পরীক্ষা জুলাই-আগস্ট নাগাদ গ্রহণের আশা করছি। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘কাস্টমাইজড’ সিলেবাস ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জানিয়ে দেয়া হবে।

জেএসসি-জেডিসিতে শুধু সনদ : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে এ বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে তুলে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। বোর্ডগুলো শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ সনদ দেবে; কিন্তু কোনো নম্বরপত্র দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আমরা যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে কিছুটা মূলায়ন করেছি, সে মূল্যায়নপত্রও আমরা সংগ্রহ করব। কিন্তু আমরা কোনো নম্বরপত্র এবার দিচ্ছি না। এ কারণে জেএসসি-জেডিসির সনদপত্রে জিপিএ উল্লেখ থাকবে না।

ফরম পূরণের আংশিক ফি ফেরত : মহামারীর মধ্যে এবার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেয়া যায়নি। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও হয়নি। তবে সবাই যথাসময়ে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ফরম পূরণ করেছেন। এই ফি’র একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের দাফতরিক ও আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় হয়েছে। বাকি টাকা ফেরত দেয়া হবে। এইচএসসির ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুর্বলতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ : মন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকাজের বিকল্প হিসেবে অনলাইন কার্যক্রম, অ্যাসাইনমেন্ট প্রভৃতি উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। কিন্তু এরপরও শতভাগ শিক্ষার্থীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারিনি। তাই শিক্ষার্থীদের কোথায় দুর্বলতা, তা বোঝার জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেটার আলোকে নীতি তৈরি করা হবে। একটি বছরে সেই দুর্বলতা কাটানো সম্ভব না হলে প্রয়োজনে পরেও এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী অপপ্রচার : মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণ কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের ইস্যুতে বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দরপত্র আহ্বান করে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। সেখানে কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের, তা দেখা সম্ভব হয় না। অভিযোগের তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোল নম্বর নিয়ে একটা সমস্যা হয়। প্রত্যেক শ্রেণিতে যে রোল নম্বর থাকে, তার কারণে একটা অনভিপ্রেত প্রতিযোগিতা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতার যে মনোভাব থাকা দরকার, অনেক সময় সেটির অভাব ঘটে। তাই আমরা ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শ্রেণির রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর দেয়ার চেষ্টা করছি। এতে পুরনো রোল নম্বর প্রথার বিলুপ্তি হবে এবং অনভিপ্রেত প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সৎ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক থেকে সব শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি দেয়া হবে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে ওই আইডি নম্বর নিয়ে থাকবে, সে ঝরে পড়ছে কি না, তাকে ‘ট্র্যাক’ করা যাবে। পরে নিজের বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আগামী বছর নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা আগের নম্বরই বহন করবে বলে জানান।

লটারিতে ভর্তি ও অতিরিক্ত ফি : মন্ত্রী বলেন, এবার লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আমরা আশা করছি, তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও হয়তো সমতা আসবে। কেননা, কিছু স্কুলে খুব ভালো ফল করে তেমন শিক্ষার্থীরা যায়, কিছু স্কুল থাকে একেবারে ভালো ফল করছে না তেমন শিক্ষার্থীরা যায়। এই যে বৈষম্য তৈরি হয়, এটা তারা স্কুল-কলেজের পুরো সময়টা বয়ে নিয়ে যায়। লটারির মাধ্যমে এই বৈষম্যের জায়গাটা অনেকখানি নিরসন হবে এবং কিছুটা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমতা আসবে।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফি আদায়ের ইস্যুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি অনৈতিক বা অন্যায্য আচরণ করে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও মন্ত্রণালয় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ফি বেঁধে দিতে পারে না। পরে তার আমন্ত্রণে বক্তৃতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম গোলাম ফারুক বলেন, কোন খাতে ফি নেয়া যাবে না, সেই নির্দেশনা স্কুলে পাঠানো হয়েছে। সেটার আলোকে তারা পদক্ষেপ নেবেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD