1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভাণ্ডারিয়ায় পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া চোরের” অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খাবার বিতরণ “পিরোজপুর ছাত্রদলের।  পিরোজপুরে সরকারি কর্মকর্তা ও সন্তানদের সমন্বয়ে ২৯ তম বার্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠিত! ভান্ডারিয়া উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর! নলছিটিতে সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। নলছিটিতে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জেলেকে অর্থদন্ড। নলছিটিতে গাঁজাসহ যুবক আটক। জমকালো আয়োজনে সাংবাদিক মাসুদ রানা’র “জম্মদিন পালন!! খন্দকার মাহবুবের সম্মানে” সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অর্ধদিবস বন্ধ! পিরোজপুরে “খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিকথা!

স্মৃতিবিজড়িত গাঁয়ের সেই মেঠো পথটা আজ বড্ড মনে পড়ে।

এইচ এম জুয়েল
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১
  • ৪১৮ বার পঠিত

স্মৃতি বিজড়িত জন্মস্থান- সেই গ্রামটি আজ বদলে গেছে 🌿🌿 😍 !! মিজানুর রহমান আকন!!
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমার জন্মস্থান ছোট্ট একটি গ্রামে। জন্মের পর সতেরো আঠেরোটি বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে উঠেছি যেই গ্রামে, যে ইউনিয়নটিতে তার নাম গৌরীপুর । বেড়ে ওঠার সময়কাল পর্যন্ত আমার দেখা এই জনপদটি ছিল প্রকৃতির সাজে সজ্জিত, সৌন্দর্য মন্ডিত। বৈচিত্র্যময় ষড়ঋতুর সবগুলো সৌন্দর্য, সবগুলো বৈশিষ্ট্য ছিল দৃশ্যমান। উপভোগ করতাম গ্রামের প্রিয় এই মাটিতে বসেই। ছিল গ্রীষ্মের দামাদাহে আম কাঠালের ধুম, শীতের কনকনে শীতে খেজুর রসের পিঠা পায়েশ, পৌষের ধান কাটার মহাসমারোহ আর বর্ষার ভারী বর্ষণে খাল বিল নদী নালা পানিতে একদম ডুবে থাকতো। কর্দমাক্ত পথে চলতে হতো মাইলের পর মাইল মাটির রাস্তায়। প্রাথমিক শিক্ষা কাছাকাছি শেষ করতে পারলেও চার পাঁচ মাইল দূরে হেঁটে গিয়ে এসে শেষ করতে হত সবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা । সে সময় এই দূরত্ব কিংবা হেঁটে যাওয়া আসাটা কষ্টের মনে হলেও দল বেঁধে স্কুলে কিংবা কলেজে যাওয়া আসার মজাই ছিল উপভোগ্য ।

তখনকার সময়ে যা দিয়ে সাজানো ছিল এই জনপদটি আর তা হলো সুন্দর আঁকা বাঁকা মেঠো পথ, পথের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট ছোট খাল আর নদী, সবুজ শ্যামল ধান ক্ষেত, প্রায় সব বাড়ি গুলোতেই ছিল স্বচ্ছল-অস্বচ্ছলতার নিরিখে গোয়ালে গরু-মহিষ, গৃহ পালিত হাঁস-মুরগী, কবুতর, ছাগল ইত্যাদি । ছিল দুই তিনটা গ্রাম্য বাজার কাজীর হাট (পৈকখালী বাজার), ডাক্তার হাট (শ্রীপুর), জমাদ্দার হাট (চড়াইল) । যে হাটগুলিতে বেচা কেনা হত গ্রামের ক্ষেতে খামারে চাষ করা ফল মূল সাক সবজি তরিতরকারি আর খালে বিলে ধরা দেশীয় জাতের বিভিন্ন মাছ, সাথে স্বল্প পরিসরে অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। গ্রামের ছোট খাল গুলো দিয়ে যাতায়াত করত ডোঙ্গা বা ডিঙ্গি নৌকা যা ছিল ভারী বোঝা কিংবা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার এক মাত্র বাহন। এমনকি মেয়েদের বা মায়েদের নায়োর যাওয়ার সুন্দরতম বাহন। জন প্রতিনিধি হিসেবে সেই সময়কার মেম্বার,চেয়ারম্যানরা ছিলেন সমাজের যথেষ্ট সম্মানিত ব্যাক্তিত্ব। ধনী পরিবার বলতে যা বুঝায় তার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। অভাব আর মধ্যবিত্তের আবর্তে গ্রামের সহজ সরল মানুষ গুলোর অধিকাংশই ছিল কৃষি নির্ভর ও খেটে খাওয়া।

যদিও অভাব অনটন ও দারিদ্রতা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসাথী কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মমত্ববোধ, সম্মান বোধের ছিল না কোন অভাব। জানিনা কত দশক কিংবা শতকের অবহেলিত ছিল আমাদের এই জনপদটি। দেখেছি এখানের মানুষ গুলোর, পরিবার গুলোর চরম ভোগান্তি, অর্থকষ্ট আর দারিদ্রতার সীমাহীন দুর্ভোগ। অসচ্ছলতার কারনে পরিবারগুলো পারতো না মেধাবী ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখাতে, ঠিক মত ভরনপোষন দিতে। এমনটির প্রভাবমুক্ত ছিল না আমাদের মত অনেকেরই পরিবার। সেই সময় ছিল না তেমন চিকিৎসা ব্যাবস্থা । অনাহার, অর্ধাহারে দিন কাটাত খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। এক সময় এগুলোকে ধরে নেওয়া হতো প্রকৃতিরই নিয়ম।

উচ্চশিক্ষার তাগিদে হোক কিংবা জীবন গড়ার তাগিদে হোক্ যথা নিয়মেই আমাদের ছুটতে হয়েছে ঢাকার দিকে । আর এভাবেই সেই তরুন বয়সে ১৯৮৬-৮৭ সনের দিকে গ্রাম ছেড়ে চলে আসি ঢাকাতে। সেই থেকে শুরু হল নিজেকে গড়ার, তৈরি করার সংগ্রামী ঢাকার জীবন।

এই সুদীর্ঘ ঢাকার জীবনে কর্মব্যস্ততা এত বেশি বেড়ে যায় গ্রামের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকলেও আসা যাওয়া কমে যায় আশাতীত ভাবে । বছরে দু একবারের বেশি যেতে পারতাম না। তাই বার বার মন চায় আবার ফিরে যাই মাটির টানে মাটির কোলে সেই গ্রামের সুশীতল ছায়া পল্লীতে।

আবার ফিরে আসি গ্রামের কথায় , ফিরে দেখি সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর পর সেই প্রিয় জনপদটিকে, সেই মায়া মমতায় জড়িয়ে থাকা জন্ম স্থানকে । কি নেই এখানে ভাবতেও অবাক লাগে- যাদুর মত বদলে গেছে সবকিছু । নেই কোথাও মেঠো পথ, নেই আগের মত মানুষের সেই অভাব, সেই হাহাকার । উন্নয়নের ছোঁয়ায় ছেয়ে গেছে সর্বত্র । গ্রাম ময় শহরের আদলে পিচ ঢালা পথ,বিদ্যুত, স্কুল কলেজে পরিপূর্ণতা পেয়েছে এই জনপদটি। বদলে গেছে জীবন যাত্রার মান। গ্রামের উপর দিয়ে এখন চলছে রিক্সা বাস,গাড়ি সহ কত যানবাহন । বেড়েছে শিক্ষা, কর্ম সংস্থান, চিকিত্সা সেবা। শিক্ষা গ্রহণ বা কর্মসংস্থান এর জন্য আগের মত আর ছুটতে হয় না শহরের পানে । বদলে গেছে গ্রামটি রূপ, সেজেছে সে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে । ভাবতে খুব ভালো লাগে ছত্রিশ বছর আগের সেই চির চেনা গৌরীপুর গ্রামটি আজ একটি পরিপূর্ণ আদর্শ গ্রাম, একটি আদর্শ ইউনিয়ন।

যখনই মনে পড়ে প্রিয় জন্মস্থান তথা আমার গ্রামটির কথা, সেখানের চিরচেনা মানুষ গুলোর কথা মনে ভেসে উঠে সে অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, অনুভূতিতে সারাক্ষণ আনন্দ আর ভালবাসার শিহরণে মনকে দোলা দিতে থাকে। আবার মাঝে মধ্যে বিষাদের ছোবল হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয় যখন স্মৃতিপটে ভেসে উঠে দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছেন আদর্শের, ভালবাসার, শ্রদ্ধা ও স্নেহেভরা কত শত প্রিয় মুখগুলো । নিয়মের অমোঘ বাস্তবতার বেড়াজালে একদিন আমারাও সবাই চলে যাবো এ পৃথিবী ছেড়ে সেই পরপারে যখন যার ডাক এসে যাবে । যেতে তো হবেই কিন্তু সেই যাওটা যেন হয় সবার ভালবাসা এবং সততার মধ্য থেকে, সৃষ্টিকর্তার পছন্দের নিয়মে । শেষ ইচ্ছা টুকু এখানে বলতেই হয়- আমার অন্তিম ঠিকানাটিও যেন হয় তোমার বুকে, তোমার কোলে যেখানে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন সেই হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষ গুলো, আর চির নিদ্রায় শায়িত আমার প্রিয় মা বাবা তাঁদের পদ প্রান্তে, তাঁদেরই পাশে হে প্রিয় জন্মস্থান, প্রিয় গ্রাম তোমার মাটিতে, তোমার কোলে। আমিন ।।

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD