1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভাণ্ডারিয়ায় পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া চোরের” অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খাবার বিতরণ “পিরোজপুর ছাত্রদলের।  পিরোজপুরে সরকারি কর্মকর্তা ও সন্তানদের সমন্বয়ে ২৯ তম বার্ষিক ক্রিড়া অনুষ্ঠিত! ভান্ডারিয়া উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর! নলছিটিতে সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। নলছিটিতে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জেলেকে অর্থদন্ড। নলছিটিতে গাঁজাসহ যুবক আটক। জমকালো আয়োজনে সাংবাদিক মাসুদ রানা’র “জম্মদিন পালন!! খন্দকার মাহবুবের সম্মানে” সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অর্ধদিবস বন্ধ! পিরোজপুরে “খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিকথা!

পিরোজপুরে “খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিকথা!

এইচ এম জুয়েল
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৪৪ বার পঠিত

পিরোজপুরে “খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিকথা !!

এইচ, এম জুয়েল : বীর সেনানী পিরোজপুরে ৫জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর কেউ বেঁচে নেই। বেঁচে আছে তাদের বীরত্বগাঁথা।

আজ এই বিজয়ের দিনে কজনে মনে করি তাদের কথা। কেমন আছেন তাদের পরিবার, খোঁজ নিয়েছি কজনার। শুধু লুটেপরে খাচ্ছি তাদের রেখে যাওয়া স্বাধীনতার সম্পদ।

মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা পিরোজপুরের যোদ্ধারা হলেন, মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমাম (বীর বিক্রম), মো. আনিছ মোল্লা (বীর বিক্রম), শহীদ আবুল কাশেম হাওলাদার (বীর বিক্রম), এম এ খালেক (বীর প্রতীক) ও আলী আকবর (বীর প্রতীক)।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাদের মহাবীর আখ্যা দিয়ে স্বহস্তে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন পিরোজপুরের তাদের কেউই আর বেঁচে নেই।

মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমামের আদিনিবাস মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী গ্রামে। ৯নং সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব সেক্টর কমান্ডার মেহেদী ছিলেন পাক হানাদারদের ত্রাস। ১৯৯৬ সালের স্বাধীনতার মাসে তিনি মারা যান। তার বীর বিক্রম খেতাব নং ১৪।

মঠবাড়িয়ার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আনিছ মোল্লা। রংপুরে ইপিআর উইং এ কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ অংশ নেন তিনি। পুরো নয় মাস ৬নং সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের সবকটি সম্মুখযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার বীর বিক্রম খেতাব নং-১০১।

ভাণ্ডারিয়ার রাধানগরে হাওলাদার বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম হাওলাদার। মুক্তিযদ্ধের সময়ে ইপিআর-এ চাকরি করতেন তিনি। ১৯৭১ সালে রাজশাহী ইপিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কাশেম ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। ৭নং সেক্টরের যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকবাহিনী পিছু হটতে থাকলে কাশেম জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। সেই সময় এক পাকসেনার গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েও সহযোদ্ধাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলে তিনি এবং পরে সেখানেই মারা যান। তার বীর বিক্রম খেতাব নং ১০৯।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শিয়ালকাঠী গ্রামে জন্ম নেয়া এম এ খালেক ছিলেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারের বৈমানিক। ২৫ মার্চ তিনি বিমান চালিয়ে ঢাকা আসেন এবং সেই রাতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিবাহিনীর নিজস্ব বিমান বাহিনী গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। তার বীর প্রতীক খেতাব নং-৩০৪।

ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুরের আকন বাড়ির “আলী আকবর ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। সৈয়দপুর সেনানিবাসে ৩১ মার্চ ৩২ জন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তিনি। পরে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে জুলাই মাসের মাঝামাঝি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বীর প্রতীক খেতাব নং-৮২।

 

পিরোজপুর জেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন মোট= ৬১ জন।

পিরোজপুর সদর=১৪ জন* নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি)=৭ জন* নাজিরপুর=৫ জন* ভান্ডারিয়া=৩ জন* কাউখালী ১৮ জন* ও মঠবাড়িয়ায় ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন শহীদ হন।

৯ নং সেক্টরের আওতাধীন” পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার ইতিকথা 

১৯৭১ সালে তদানীন্তন জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের নেতা ও বাঙ্গালির গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চিরকালের সাহসী মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ রের্সকোর্স ময়দানে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং ‘ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো’ বলে ঐতিহাসিক ও দিক নির্দেশনাপূর্ণ ভাষণের প্রেক্ষিতে দেশের অন্যান্য স্থানের মত তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার প্রতিটি গ্রামে গড়ে ওঠে প্রতিরোধের দূর্গ। এ সময় প্রায় সকল মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। পিরোজপুরের ছাত্র-জনতা একতাবদ্ধহয়ে মারমুখি হয়ে ওঠে। শত্রুর বিরুদ্ধে ৩ মার্চ বিকালে ঢাকা থেকে আগত সামসুল হক (এম.এন.এ-মঠবাড়ীয়া), ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ও আওয়ামীলীগ নেতা বদিউল আলমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিরোজপুরে পাকিস্তানী পাতাকায় অগ্নিসংযোগ করতে করতে মিছিল সহকারে শহর প্রদক্ষিণ করে। এর আগে ২মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন(মতিয়া) শহরে বাঁশের লাঠি ও ডামি রাইফেল নিয়ে সদর রাস্তায় সকাল দিকে সুশৃঙ্খল মহড়া প্রদর্শন করলে পথচারী জনসাধারণ করতালি দিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানায়। ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ২৩ মার্চ শত শত জনতার উপস্থিতিতে স্থানীয় টাউন হল মাঠের শহীদ মিনারে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়িয়ে দেন। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে বরিশাল থেকে নূরুল ইসলাম মঞ্জুর টেলিফোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা পিরোজপুরে পাঠান। এসময় পিরোজপুরে আওয়ামীলীগের নির্বাচিত এম.এন.এ (মেম্বর অব ন্যাশনাল এসেম্বলি) ছিলেন এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খান। ২৬ মার্চ বিকেলে পিরোজপুর টাউনহল ময়দানের জনসভায় অস্ত্র সংগ্রহের আবেগময় ও নির্দেশনামূলক আহবান জানালে এ্যাডভোকেট এনয়েত হোসেন খান, ডাঃ আব্দুল হাই, ডাঃ ক্ষিতীষ চন্দ্র মন্ডল, এ্যাডভোকেট আলী হায়দার খান, ফজলুল হক খোকন, জামালুল হক মনু প্রমূখ স্বাধীনাতা প্রেমী জনতা টাউন হলের অদূরে পিরোজপুর মহকুমা প্রশাসকের অফিস সংলগ্ন অস্ত্রাগারটি আক্রমণ করে সমস্ত রাইফেল, বুলেট সংগ্রহ করেন নেয়। ১৯ মে ১৯৭১ অস্ত্রাগারের আর.এস.আই. গোলাম মাওলা বাদী হয়ে পিরোজপুর থানায় ৫৫ জনকে আসামী করে এই ৫নং মামলা দায়ের করেন।

২১ মার্চ লাহোর থেকে পিরোজপুরে আসেন পিরোজপুরের সন্তান লেঃ জিয়াউদ্দিন। ২৭ মার্চ বিকাল ৪টা থেকে পিরোজপুর সরকারী হাইস্কুল মাঠে তাঁর প্রচেষ্ঠায় মুক্তিফৌজ গঠন পূর্বক অস্থায়ীভাবে গঠিত বিপ্লবী সরকারের স্থানীয় প্রধান এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খান এম.এন.এ-কে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জনাব এনায়েত হোসেন খান (এ্যাডভোকেট), ডাঃ আঃ হাই, আলী হায়দার খান (এ্যাডভোকেট), ডাঃ ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডল, এই চারজন উচু পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা হিসাবে পিরোজপুর মহকুমার মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন এবং দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৪ মে পিরোজপুরে প্রথমে হানাদার পাকবাহিনী প্রবেশ করে। হুলারহাট থেকে শহরে প্রবেশের পথে তারা মাছিমপুর আর কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় হিন্দু আর স্বাধীনতার পক্ষের মুসলমানদের বাড়িঘরে দেয়া হয় আগুন, হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষ।

৬ মে রাজাকারদের সহায়তায় ধৃত পিরোজপুরের তৎকালীন এস.ডি.ও(ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক (কুমিল্লা), ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমান (নড়াইল), এস.ডি.পি.ও ফয়জুর আহমেদ (ময়মনসিংহ)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুরের অদূরে চালিতাখালী গ্রাম থেকে এক দড়িতে বেধে আনা হয় মোসলেম আলী শেখ, আব্দুর রহমান সরদার, খাউলবুনিয়ার আব্দুল গফ্ফার মাস্টার, জলিল হাওলাদার, জুজখোলার সতীশ মাঝি এবং শামছু ফরাজীসহ ১২ জন স্বাধীনতাকামীকে। তাঁদেরকে বলেশ্বরের বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমা শহর শত্রুমুক্ত হয় এবং সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের। পিরোজপুরের ঘরে ঘরে উত্তোলিত হয় বিজয়ের পতাকা। তথ্য সংগৃহীত।

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD