1. admin@dainiktrinamoolsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন কে  কতটুক মূল্যায়ন করেছি

এইচ এম জুয়েল
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৭৫৭ বার পঠিত

জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি

সৈয়দ মইনুল হোসেন কে

কতটুক মূল্যায়ন করেছি

 সম্পাদকীয় ভাবনা: এইচ এম জুয়েল :

এই রাষ্ট্র বা সমাজ কতটুকু মূল্যায়ন করতে পেরেছি যার হাত ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি প্রাণের অমর স্মৃতি স্তম্ভ (স্মৃতিসৌধ) এর ডিজাইনার সৈয়দ মাইনুল হোসেন জীবন কেটেছে চিকিৎসা বিহীন অর্ধাহারে-অনাহারে

উল্লেখ্য: স্মৃতিসৌধ ডিজাইন বাবদ তৎকালীন সম্মানী ভাতা ২ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ৫০% ভ্যাট ও আয়কর সহ নানা খাতে কেটে নিলে মাত্র ১ লক্ষ টাকা হাতে পান। এবং ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে ১৬ ই ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ জাতীয় স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করার সময় সেই অনুষ্ঠানে স্থাপিত মাইনুল হোসেন কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।    নিজ উদ্যোগে সৈয়দ মইনুল হোসেন জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন শত রঙে বর্ণিল সাজে সেজে ছিল তার গড়া অমর স্মৃতি!    পরে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন গণপূর্তমন্ত্রী বলেছিলেন “দুঃখিত তার কথা মনে ছিল না”। স্থাপিত সৈয়দ মইনুল হোসেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর্থিক ধন্য দশায় পড়েন এমনকি একবেলা হারের জন্য অন্যের কাছে হাত পর্যন্ত পাততে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা তো দূরের কথা কাছের মানুষগুলো তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায়নি অবশেষে ৬২ বছর বয়সী এই মহান স্থাপিত সৈয়দ মইনুল হোসেন বিনা চিকিৎসায় কাতর হয়ে বুক ভরা ব্যথা নিয়ে সকলের সাথে অভিমান করে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

কে এই মাইনুল হোসেন কি তার পরিচয়

জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন l তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি। সৈয়দ মাইনুল হোসেনের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৭ মার্চ ঢাকায়। বাবার চাকুরীর সুবাধে তাঁর জীবনের অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে এই ফরিদপুর শহরে ৷ ফরিদপুর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু হয়েছিল তাঁর৷ প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৬২ সালে ভর্তি হন ফরিদপুর জেলা স্কুলে ৷ ১৯৬৭ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন৷ ১৯৬৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিদ্যায় (নকশা) ভর্তি হন। ১৯৭৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে স্থাপত্য বিদ্যা পাশ করেন তিনি ৷ ১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাসে ‘ইএএইচ কনসাল্টটেন্ট লিমিটেড এ জুনিয়র স্থপতি হিসাবে যোগদান করেন সৈয়দ মাইনুল হোসেন ৷ কয়েক মাস পর ওই চাকরি ছেড়ে একই বছরের আগষ্টে ‘বাংলাদেশ কনসালট্যান্ট লিমিটেড’ এ জুনিয়র স্থপতি হিসাবে যোগদান করেন৷

জন্ম- মে ১৯৫২সাল=#=মৃত্যু-১০ নভেম্বর, ২০১৪সাল=#=পেশা-স্থপতি=#=পরিচিতির কারণ-জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি=#=তার সন্তান-সৈয়দা তাহরিম হোসেন, সৈয়দা তানজিলা হোসেন=#=তার পিতামাতা-সৈয়দ মুজিবুল হক (পিতা) সৈয়দা রাশিদা হক (মাতা)=#=পুরস্কা-একুশে পদক, শেলটেক

বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। ঢাকার সাভারে অবস্থিত ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৪৬.৫ মিটার বা ১৫০ ফুট উচ্চতার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এর ৭ টি ফলক স্বাধীনতার পর্যায়ক্রমের নিদর্শন।

তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে এ চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ১৯৭৯ এর জানুয়ারিতে যোগ দেন ‘স্থপতি সংসদ লিমিটেড’ এ জুনিয়র স্থপতি হিসাবে৷ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি আরো বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র হিসাবে কাজ করেন৷ ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি যোগদান করেন ‘শহীদুল্লাহ এন্ড এসোসিয়েট লিমিটেড’ এ  এখানেও জুনিয়র স্থপতি হিসেবে কাজ করেন তিনি ‘ঢাকা মিউজিয়াম ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ’ সহ আরো অনেক কাজের নকশা বাস্তবায়ন করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি৷ ১৯৭৬-৯৮ সালের মধ্যে বেশ কিছু বড় স্থাপত্যকর্ম করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে কারওয়ান বাজারের আইআরডিপি ভবন, ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, চট্টগ্রাম ইপিজেড, ঢাকার অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল ইত্যাদি। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাভারে স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নকশা আহ্বান করা হয় ১৯৭৮ সালে। মোট ৫৭টি নকশার মধ্যে থেকে সে সময়ের তরুণ স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেনের নকশাটি গৃহীত হয়।

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০ দৈনিক তৃণমূল সংবাদ
Theme Customized BY Theme Park BD